মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৩০ জুন ২০১৬

ভিশন-মিশন-লক্ষ্য-উদ্দেশ্য

ভিশন (Vision)

প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদেরকে সেবাপ্রদানের লক্ষ্যে বোর্ডকে একটি দক্ষ, যুগোপযোগী এবং তথ্য-প্রযুক্তিসমৃদ্ধ কল্যাণমূলকপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা।

মিশন(Mission)

কল্যাণমূলক বিভিন্ন সেবা প্রদানের মাধ্যমে প্রজাতন্ত্রের অসামরিক কাজে নিয়োজিত বোর্ডের এক্তেয়ারভুক্ত সকল কর্মচারী এবং তাঁদের পরিবারবর্গের আর্থসামাজিক নিরাপত্তা বিধানে সহায়তা প্রদান।

উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য

১। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বিশেষ প্রয়োজনে সহযোগিতা প্রদানের মাধ্যমে তাঁদের মেধা ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে প্রজাতন্ত্রের একনিষ্ট কর্মী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা।
২। বোর্ডের গতানুগতিক কর্মের ধারাবাহিকতা পরিবর্তন করে আধুনিক তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে, সেবা প্রার্থীকে তাঁর কাঙ্খিত সেবা প্রদানের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা।
৩। বোর্ডের ভিশন বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে বোর্ড কর্মচারীদের বছরের শুরুতে করণীয় কাজের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে, সে অনুযায়ী কর্ম সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
৪। দক্ষ ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সৎ কর্মচারীদের উপযুক্ত স্থানে পদায়ন করে, অফিসকে সে কাজে সেবা প্রদানের একটি সুন্দর মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করা।
৫ । বোর্ডের রাজস্ব ও কল্যাণ তহবিলে প্রাপ্ত বরাদ্দ, অর্থ-বছরের প্রথমে সঠিকভাবে বন্টন ও কর্মভিত্তিক যথাযথ খাতে বাস্তবায়ন করে কাঙ্খিত ফলাফল অর্জনের চেষ্টা করা।
৬। বোর্ডের নীতিমালা অনুসরণ করে যে উপায়ে সেবা প্রার্থী সহজে তাঁর কাঙ্খিত সেবা পায়, সে উপায় অবলম্বনের চেষ্টা করা।
৭। আধূনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে বোর্ডের কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য বোর্ডের কর্মচারীদেরকে সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ প্রদান করে তাঁদের একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত করা।
৮ । বোর্ডের বিভিন্ন কর্মসূচী ভিশনকে সামনে নিয়ে যথারীতি বাস্তবায়িত হচ্ছে কিনা তা পরিচালক ও উপ-পরিচালকগণ কর্তৃক পর্যবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধান করা এবং কোন সমস্যা গোচরীভূত হলে তা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে মহাপরিচালককে বিষয়টি অবহিত করা।
৯। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে যাঁরা এখনও কল্যাণ বোর্ড কর্তৃক প্রদানকৃত সেবা ও সহযোগিতার বিষয়টি অবহিত নন, বোর্ডের পক্ষ থেকে সেবা প্রদানের বিষয়গুলো তাঁদের যথারীতি অবহিত করার চেষ্টা করা।

 

কর্মকৌশল (Work Strategy)নির্ধারণ

১। আবেদনকারী সেবা প্রার্থীকে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর কাঙ্খিত সেবা প্রদানের জন্য বোর্ডে একটি Information & Service Centre/ Help Desk প্রতিষ্ঠা করা ও এ বিষয়ে একজন কর্মচারীকে দায়িত্ব প্রদান করে তাঁকে দক্ষতার সাথে দায়িত্বপালনে সহযোগিতা করা।

২। অটোমেশন প্রযুক্তির সাহায্যে সেবাপ্রার্থীর আবেদন দ্রুত নিস্পত্তির জন্য মোবাইলে SMS প্রদানের মাধ্যমে তাঁর আবেদনের অবস্থা ও ফলাফল সম্পর্কে BKKB এর পক্ষ থেকে জানিয়ে তাঁর কাঙ্খিত সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করা।

৩।প্রজাতন্ত্রের মৃত কর্মচারীদের মাসিক কল্যাণ ভাতা ও যৌথবীমার এককালীন অর্থ সাহায্য তাঁর পরিবারের নিকট দ্রুত ও অতি সহজে প্রেরণের জন্য অফিস অটোমেশন সফট্ওয়্যার ব্যবহার করা।

৪। প্রজাতন্ত্রের প্রতিটি কর্মচারীকে শারীরিকভাবে সুস্থ, সবল ও তাঁর কর্মদক্ষতা অব্যাহত রাখার জন্য জটিল-ব্যয়বহুল ও বিশেষ চিকিৎসার অর্থ সাহায্য প্রদান কার্যক্রম Customized Database সফটওয়্যারের মাধ্যমে দ্রুত নিস্পত্তি করা।

৫। আবেদনকারী সেবাপ্রার্থীকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাঁর আবেদনের বিষয়টি নিস্পত্তি করে তাঁর কাঙ্খিত সেবা প্রদানের চেষ্টা করা।

৬। সেবাপ্রার্থী দুর-দুরান্ত থেকে অনেক কষ্ট স্বীকার করে অফিসে সেবা নিতে আসেন। সুতরাং সেবাপ্রার্থীর প্রাপ্য সেবাটি পেতে কোন কারণে বিলম্ব হলে কি কারণে বিলম্ব হচ্ছে তা তাঁকে যথাসময়ে অবহিত করা।

৭। সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সকল প্রকার অজুহাত বা বিলম্ব পরিহার করা। মনে রাখতে হবে Justice Delayed, Justice Denied এর সমতুল্য।

৮। ওয়ানষ্টপ ও নন ষ্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবাপ্রার্থীর কাজটি করে দেয়ার চেষ্টা করা।

৯। প্রজাতন্ত্রের সকল শ্রেণী ও পেশার কর্মচারীর ক্ষেত্রে সমভাবে আইনের বিধান অনুসরণ করে অফিসের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করা।

করণীয়সমূহ(Steps to do)

১।  কাজ করার ক্ষেত্রে সর্বদাই সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য প্রণীত বিধি বিধান অনুসরণ করা। কার্যসম্পাদনের জন্য বিধিতে কোন সময় নির্ধারিত থাকলে সে সময়ের মধ্যেই কাজটি শেষ করার চেষ্টা করা।

২। বোর্ডের কর্ম সম্পাদনের ক্ষেত্রে একটি সাধারণ Ethics বজায় রাখা অর্থাৎ যাঁর আবেদনটি আগে তাঁর আবেদনটি আগে নিস্পত্তি করা।

৩। সেবাপ্রার্থীর আবেদনে কোন ত্রুটি থাকলে তাঁর আবেদনটি সহজে ত্রুটি মুক্তকরণের চেষ্টা করা। সম্ভব হলে তাঁকে আবেদনের একটি নমুনা দিয়ে সহযোগিতা করা।

৪। একই কাজের জন্য বার বার অফিসে এসে সেবাপ্রার্থীকে যাতে হয়রানী হতে না হয়, সে দিকে লক্ষ্য রেখে সেবা প্রার্থীর কাঙ্খিত সেবা প্রদানের চেষ্টা করা।

৫। সেবাপ্রার্থীর কাজটি প্রচলিত আইনে করা সম্ভব না হলে প্রথমেই তাঁকে জানিয়ে দেয়া ও তাঁর সাথে সুন্দর ব্যবহার করা।

৬। অফিসের কাজ যতদুর সম্ভব নিরপেক্ষতা বজায় রেখে ও স্বজনপ্রীতি পরিহার করে সম্পন্ন করার চেষ্টা করা।

৭। অফিসের কাজ করার ক্ষেত্রে কাজপ্রার্থীর কোন তদবির বা তাগিদ পাওয়ার জন্য অপেক্ষা না করে বরং তাঁর কাজটি যথাসময়ে করে রাখা।

৮। অবৈধ সুযোগ লাভের আশায় কাজপ্রার্থীর আবেদনে অহেতুক ত্রুটি বের না করে বা জটিল করে উপস্থাপন করে তাঁর কাজটি বিলম্বিত করার চেষ্টা না করা।

৯। অফিসকে সকল প্রকার দুর্নীতি হতে মুক্ত রাখার চেষ্টা করা এবং নীতিবহির্ভূত কাজ করার জন্য কেহ কাউকে প্ররোচিত করলে তার যথাযথ প্রতিবাদ করা।

 

দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন(Mindset Change)

১। আমরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কর্মীদের সেবা প্রদান করাই আমাদের লক্ষ্য। সুতরাং এ লক্ষ্য অর্জনে কাজ প্রার্থীর জন্য অপেক্ষা না করে বরং তাঁর কাজটি আগেই করে রাখার মানসিকতা তৈরি করা।
২। সেবা প্রার্থীকে যাতে একই কাজের জন্য বার বার অফিসে এসে হয়রানী হতে না হয়, সে দিকে লক্ষ্য রেখে কাজ করলে কাজ প্রার্থীর সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব হয়। কারন কাজ প্রার্থীর সন্তুষ্টি অর্জনও আমাদের কাম্য।
৩। কথায় কাজে ও আচার ব্যবহারে নিজেকে সর্বদা ভদ্র, নম্র, সৎ ও সচ্ছ রাখার চেষ্টা করা। কারন অফিসের কাজে ব্যক্তিগত ইমেজ নষ্ট করা কোন বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
৪। অফিসে সকল প্রকার নীতিবহির্ভূত কাজ করা হতে নিজেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা। কারন অনিয়ম দুর্নীতির ফলাফল কখনও শুভকর হয়না।
৫। এ সত্য উপলব্ধি করা প্রয়োজন যে, আমি যেমন অন্য অফিসে হয়রানিমূক্তভাবে সহজে আমার কাজ পেতে চাই তেমনি অপরেও আমার অফিস থেকে সহজে হয়রানিমূক্তভাবে তাঁর কাজ পেতে আশা করেন।
৬। নামাজ-রোজা, হজ্জ-যাকাত ও দান-খয়রাত ইত্যাদি করাই শুধু পূণ্যের কাজ নয়, প্রজাতন্ত্রের নিয়োজিত কর্মচারী হিসেবে অর্পিত দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করাও এবাদত।
৭। এ সত্য উপলব্ধি করা প্রয়োজন যে,

ভিক্ষুককে ভিক্ষা দিয়ে ভিক্ষুককে আমরা কোন উপকার করলাম না

বরং ভিক্ষুকই ভিক্ষা নিয়ে আমাদের দায় মুক্ত করল।

৮। এ সত্য স্বীকার করা প্রয়োজন যে,

ক্রেতা ব্যক্তি মালামাল কিনে তার নিজের প্রয়োজন মেটালেন না বরং

মালামাল কিনে আমাকে দু’পয়সা বৈধভাবে আয়ের সুযোগ করে দিলেন।

৯। এ সত্যও স্বীকার করা প্রয়োজন যে,

আবেদনকারীর কাজটি করে দিয়ে আমি শুধু তাঁর উপকার করলাম না বরং

আমাকে কাজটি করার সুযোগ দিয়ে তিনি আমার বেতন নেয়াটি হালাল করে দিলেন।


Share with :
Facebook Facebook